সন্দীপ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

সন্দীপ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত সুপ্রাচীন জনপদ সন্দীপ। সন্দীপ সম্পর্কে অবাক করা তথ্য রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। ইউরোপীয়দের লেখা ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, সন্দ্বীপে প্রায় ৩০০০ হাজার বছরের অধিককাল ধরে লোক বসতি বিদ্যমান ছিল। সন্দীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব কোণে ২২ ডিগ্রী ১৬ সেলসিয়াস থেকে ২২ ডিগ্রি ৪৩ সেলসিয়াস উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১ ডিগ্রি ১৭ সেলসিয়াস থেকে ৯১ ডিগ্রি ৩৭ সেলসিয়াস পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।

চট্টগ্রাম উপকূল সন্দ্বীপের মাঝখানে সন্দীপ চ্যানেল অবস্থিতচট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে নদীপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এ উপজেলার অবস্থানসন্দীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের দূরত্ব প্রায় দশ মাইলনোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড সন্দীপ থেকে প্রায় ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিতসন্দীপের প্রায় বিশ মাইল পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপের অবস্থানসন্দীপের সীমানা হচ্ছে পূর্বে সন্দীপ চ্যানেল ও চ্যানেলের পূর্ব পাড়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও মিরসরাই উপজেলা, উত্তরে বামনী নদী, পশ্চিমে মেঘনা নদী ও তারও পশ্চিমে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর

পঞ্চদশ শতাব্দীতে সন্দ্বীপের আয়তন প্রায় ৬৩০ বর্গ মাইলের হলেও মেঘনার রাক্ষসী দেওয়ের ছোবলে ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনের কারণে বর্তমানে এটি মাত্র ৮০ বর্গমাইলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপে পরিণত হয়েছে
সন্দীপের দৈর্ঘ্য ২৫ মাইল(৪০ কিলোমিটার) ও প্রস্থ ৩-৯ মাইল(৫-১৫ কিলোমিটার)

সন্দীপ সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য

সন্দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন মতামত শোনা যায়কারো কারো মতে আবার আউলিয়ারা চট্টগ্রাম যাত্রার সময় এই দ্বীপটি জনমানুষহীন অবস্থায় আবিষ্কার করেন এবং নামকরণ করেন শূন্যদ্বীপযা পরবর্তীতে সন্দ্বীপে রূপ নেয় ইতিহাসবেত্তা বেভারিজের মত চন্দ্র দেবতা ‘সোম’ এর নাম অনুসারে এই এলাকার নাম সোম দ্বীপ হয়েছিল যা পরবর্তীতে সন্দ্বীপে রূপ নেয়কেউ কেউ দ্বীপের উর্বরতা ও প্রাচুর্যের কারণে দ্বীপটিকে স্বর্ণ দ্বীপ আখ্যা প্রদান করেউক্ত স্বর্ণ দ্বীপ সন্দীপ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়দ্বীপের নামকরণের আরেকটি মত হচ্ছে ইউরোপীয় জাতিগণ বাংলাদেশে আগমনের সময় দূর থেকে দেখে এই দ্বীপকে বালির স্তুপ বা তাদের বাসায় সেন্ড হিপ নামে অভিহিত করেন এবং তা থেকে বর্তমান সন্দীপ নামের উৎপত্তি হয়

সন্দ্বীপের লবণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ কারখানা ও অস্ত্র শিল্প পৃথিবী খ্যাত ছিল
উপমহাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভ্রমণকারীরা এই অঞ্চলে
এসে তাদের জাহাজ নোঙ্গর করতেন এবং সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং
পরিবহন সুবিধাদি থাকায় এই অঞ্চলে ব্যবসায় এবং বসতি স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করতেন
১৭৭৬ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিবছর সন্দ্বীপে উৎপাদিত প্রায় এক লক্ষ হাজার মন লবণ,
৩০০ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো

সন্দীপ সম্পর্কে কিছু আলোচনা

সন্দীপ এককালে কম খরচে মজবুত ও সুন্দর জাহাজ নির্মাণের জন্য পৃথিবীরখ্যাত ছিল
ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় এই জাহাজ রপ্তানি করা হতোতুরস্কের সুলতান এই এলাকার
জাহাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এখান থেকে বেশ কিছু জাহাজ কিনে নেন
আর ভারতবর্ষের মধ্যে সন্দীপ ছিল একটি সমৃদ্ধশালী বন্দর
লবণ ও জাহাজ ব্যবসা, শস্য সম্পদ ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ষোলশ শতাব্দীর
মধ্যভাগে পর্তুগিজরা সন্দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেন

এছাড়া ভ্রমণ ও মধ্যপ্রচারের উদ্দেশ্যে ফরাসি ও ওলোন্দাজ পরিব্রাজকরা প্রায়ই সন্দ্বীপে আগমন করতেন
এই দ্বীপের ঐতিহাসিক, পর্যটক এসেছেন এখানে
১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক পর্যটক ইবনে বতুতা সন্দ্বীপে আসেন
১৫৬৫ সালে ডেনিস পর্যটক সিজার ফ্যাডরিক সন্দীপে আসেন এবং
প্রাচীন নিদর্শনের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন

সন্দীপ সম্পর্কে অজানা তথ্য

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি মোজাফফর আহমেদের সাথে সন্দ্বীপে
আসেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম
সন্দীপ ভ্রমণের সময়কার স্মৃতির পটভূমিকাতেই কাজী নজরুল ইসলাম
তার মধুবালা গীতিনাট্য রচনা করেনসন্দ্বীপে বৃক্ষের ছায়াতলে বসে নজরুল
তার চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অনেকগুলো কবিতা রচনা করেন

সন্দীপ ১৯৫৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত সন্দীপ নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়১৯৮৪ সালে সন্দ্বীপ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়সন্দ্বীপে একটি পৌরসভা রয়েছে, যা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিতএ উপজেলায় বর্তমানে ১ টি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন রয়েছে সম্পূর্ণ সন্দীপ থানার আওতাধীন

Read More

৫৭ টি পদে কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৩