ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

ঈদের নামাজ খোলা জায়গা, মসজিদ কিংবা বাসাবাড়ি যেখানেই হোক না কেন,অবশ্যই তা জামায়াতের সঙ্গে পড়তে হবে
জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যেও একই শর্ত প্রযোজ্য

ওয়াকফকৃত জায়গা
কমপক্ষে তিনজনের জামায়াত
খুতবা পাঠ ও শ্রবণ
সূর্য উদিত হওয়ার পর দ্বিপ্রহরের আগে পড়া

সুতরাং, জামায়াত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে নাবাসা বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হলেও অবশ্যই জামাআতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।আর একান্ত অপারগতা ছাড়া বাসায় ঈদের জামায়াত শুদ্ধ হবে না
যদি কোন সমস্যা থাকে, বা কোন পরিস্থিতির কারণে তিনি যদি ঈদগাহে না যেতে পারেন, তাহলে বাসায় পড়তে পারবেন কিন্তু এছাড়া ঈদের নামাজ বাসায় পড়ার বিধান নেইঈদের নামাজ বাড়িতে পড়ার বিষয় নয় তাহলে তো আর ঈদের সালাতের কোন মূল্যই থাকলো নাঈদগাহের প্রয়োজন হল না ঈদের সালাতেরও কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকবে না
তাহলে ঈদের মর্যাদায় হারিয়ে যাবে তবে, সমস্যার কারণে বাড়িতে পড়তে চাইলে তিনি বলতে পারবেন

ঈদুল আযাহার নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজের জন্য অন্যান্য ওয়াক্তিয়া নামাজের মত কোন আজান ও একামত নেইতবে জুমার নামাজের মতই উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়দিনের বেলার সালাত হওয়া সত্ত্বেও

ঈদুল আযহা

অন্যান্য নামাজ থেকে ঈদের নামাজের পার্থক্য হল অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীর দিতে হবে
. প্রথম রাকাতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে অতিরিক্ত তিন তাকবীর দিয়ে সুরা ফাতিহা পড়া
. দ্বিতীয় রাকাতে সূরা মিলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাওয়া

ঈদুল আযহার ঈদের নামাজের নিয়ত

আরবি উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছালিয়া লিল্লাহি তা আলা রাকায়াতাই ছালাতি ঈদিল আযহা মাআ ছিত্তাতি তাকবিরাতি
ওয়াজিবুল্লাহি তা আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার

ঈদুল আযহার নামাজের বাংলা নিয়ত

ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সঙ্গে এই ইমামের পিছনে,
কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি.. আল্লাহু আকবার

প্রথম রাকাত

১. তাকদীরে তাহরিমা: ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাধা

২. ছানা পড়া: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা জাদুকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুকা

৩. অতিরিক্ত তিন তাকবীর দেওয়া:
এক তাকবীর থেকে আরেকটা তাকবীরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা
প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবীরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেয়া এবং তৃতীয় তাকবীর দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেয়া

৪. আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া

৫. সূরা ফাতেহা পড়া

৬. সূরা মিলানো, অতঃপর নিয়মিত নামাজের মত রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা

দ্বিতীয় রাকাত

১. বিসমিল্লাহ পড়া

২. সূরা ফাতিহা পড়া

৩. সূরা মিলানো

৪. সূরা মিলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবীর দেয়া
প্রথম রাকাতের মত দুই তাকবীরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেয়া
অতঃপর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে হাত বাধা

৫. তারপর রুকুর তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাওয়া

৬. সেজদা আদায় করে তাশাহুদ, দুরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা

ঈদের খুতবা শোনা

ঈদের নামাজে ইমাম কর্তৃক খুতবা পড়া সুন্নত এবং মুসল্লিদের খুতবা শোনা ওয়াজিব
জুমার নামাজের ন্যায় প্রথমে বিষয়ভিত্তিক খুতবা এবং পরে সানি খুতবা পাঠ করতে হয়
সাধারণত খুতবার পড়ে দোয়া করা হয়

ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দিবে আর মুসল্লিরা মনোযোগ সহকারে শুনবে
অবশ্য অনেকেই খুতবা না দেওয়ার ব্যাপারে শিথিলতার কথা বলেছেন
খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে বলে মত দিয়েছেন

ঈদুল আযহার দিনের বিশেষ সুন্নাত

ঈদের সুন্নত হল-

১. খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা

২. গোসল করা

৩. মিসওয়াক করা

৪. সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পোশাক পরিধান করা

৫. আতর ব্যবহার করা

৬. মহল্লার মসজিদে গিয়ে জামাতে ফরজের নামাজ আদায় করা

৭. ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া

৮. ঈদুল আযহার দিন সকালে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া

৯. ঈদুল আযহার দিন পবিত্র কোরবানির গোস্ত দিয়ে খাওয়া শুরু করা

১০. ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আশা

১১. সকাল সকাল পবিত্র ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যাওয়া

১২. ঈদের নামাজ ঈদগাহে গিয়ে পড়া, সম্ভব না হলে মহল্লার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া

১৩. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া:

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ

১৪. শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত

Read More

টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে জানা অজানা কিছু তথ্য

কুরবানির মাংস বন্টন করার নিয়ম